পাকিস্তান-ইন্ডিয়া টেস্ট ম্যাচ আবার মাঠে ফিরলেও, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ হাফিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলছেন, বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আইসিসিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হলো। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দি ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দীর্ঘ সপ্তাহ ধরে কলকাতা নয়, কলম্বোতে ভারতের সঙ্গে খেলতে অস্বীকার করেছিল। ম্যাচ না খেলার ফলে আইসিসি প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। আপাতত শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে আইসিসি ঘোষণা করেছে, ২০৩১ সালের আইসিসি মেনস ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন হবে। পাকিস্তানের এই বর্জন মূলত সরকারের নির্দেশে নেওয়া হয়, যা আসে বাংলাদেশের দলকে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার সুযোগ না দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে।
‘গেম অন হ্যায়’ অনুষ্ঠানে হাফিজ বলেন, শেষ দুই-তিন সপ্তাহ ধরে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মিশ্রণ কিসের সমাধান হলো? প্রথমেই ভেবে দেখা উচিত বিশ্বের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশি, ইংল্যান্ড বা পাকিস্তানে- তাদের কতটা কষ্ট হলো এই সিদ্ধান্তে। আমার প্রশ্ন একটাই, আসলে দোষ কার?
পাকিস্তানের এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, কেউ দোষী ছিল, তবে প্রকাশ করা হয়নি কার ভুল। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে? যদি ভুলের ভিত্তিতে হয়- তা কেন স্বীকার করা হলো না? পরে বলে তারা ‘অখণ্ডতা ও খেলাধুলার স্পিরিট’ রক্ষা করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আগে কোথায় ছিল? প্রশ্ন হলো, বিষয়টা এমন পর্যায়ে পৌঁছার প্রয়োজন কেন ছিল?
হাফিজ আরও বলেন, আইসিসি ও তাদের প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা এটা। এটা প্রথমেই স্বীকার করতে হবে। তারপর, বাংলাদেশ যদি কোনো সুবিধা, টুর্নামেন্ট বা অংশগ্রহণ ফি পায়। কোনো শাস্তি না দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকে- ঠিক আছে। কিন্তু যিনি ভুল করেছেন, তার পরিচয় প্রকাশ করা উচিত। যদি তা লুকিয়ে রাখা হয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটতে পারে। কোনো ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত, উন্নতি করা সম্ভব নয়। এই পুরো ঘটনায় এখনও বুঝতে পারিনি আসলে দোষ কার।
তিনি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, যা ঘটেছে তা ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়নি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় সমর্থক। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরো বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি আশা করেন- শুধু এক ম্যাচ নয়। আমি চাই নিয়মিতভাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হোক।
সোমবার সন্ধ্যায় আইসিসি প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক, তবে এটি আইসিসির বাংলাদেশের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি বদলায় না। আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডসহ প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে দেশটির ক্রিকেট টেকসইভাবে বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে খেলোয়াড় ও ভক্তদের সুযোগ শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ইকোসিস্টেম, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি দাবি করে এবং স্বল্পমেয়াদি বাধা দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়।