ব্রেকিং নিউজ :
যুগপৎ আন্দোলনের সাথীদের নিয়েই সরকার গঠন করবে বিএনপি : মির্জা ফখরুল গণভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ, ‘হ্যাঁ’ জিতেছে লক্ষীপুর-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. শাহাদাত হোসেন হবিগঞ্জ-৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জি কে গউছ তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন সুষ্ঠু ও শতভাগ নিরপেক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করবে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ বিজয় মিছিলে ‘না’, জুমার পর বিশেষ মোনাজাতের নির্দেশ তারেক রহমানের সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কোন দল কত আসন পেল ভোলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার
  • প্রকাশিত : ২০২০-১২-১৪
  • ৫৮৮ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করল তার অমর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। মিরপুর বধ্যভূমি ও রায়েরবাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
ভোরের আলো ফুটতেই বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধগুলোতে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। পায়ে পায়ে সবার গন্তব্য বধ্যভূমি। এখানেই যে বাঙালির সেরা সন্তানদের হত্যা করে ফেলে রেখেছিল পাকিস্তান বাহিনী, চালিয়ে ছিল পৃথিবীর নৃশংস এক গণহত্যা। সেই ঘটনার ৫০ বছরে শ্রদ্ধা অবনত সাধারণ মানুষ।
আজ সোমবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। ছিল ইতিহাস বিকৃতকারীদের রুখে দেয়ার শপথ। সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে সঠিক ইতিহাসের চর্চার দাবিও ছিল মানুষের মাঝে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতেরলেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের কৃতী সন্তানদের হত্যা করে। তারপর থেকে দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢলনেমেছিল।ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষ ভিড় করেন মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনে। সবার হাতে ছিল ফুলের তোড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা কালো ব্যানার।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের একদিন আগে দেশ ও জাতির জন্য আত্মোৎসর্গকারী মহান বীরদের প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষথেকে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকীব আহমেদ চৌধুরি শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নীরবতা পালনের মাধ্যমে তার শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সময় বিউগলে বেজে উঠে করুন সুর।
এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পক্ষথেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মন্ত্রী আ ক মমোজাম্মেল হক।
সকাল ৯ টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান ও আব্দুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা.রোকেয়া সুলতানা, বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী ও আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রথমেই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনসাধারণ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে হত্যা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat