ব্রেকিং নিউজ :
লক্ষীপুর-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. শাহাদাত হোসেন হবিগঞ্জ-৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জি কে গউছ তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন সুষ্ঠু ও শতভাগ নিরপেক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করবে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ বিজয় মিছিলে ‘না’, জুমার পর বিশেষ মোনাজাতের নির্দেশ তারেক রহমানের সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কোন দল কত আসন পেল ভোলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে যমুনা থেকে ভোটদান চিত্র পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার
  • প্রকাশিত : ২০১৯-০৯-২৭
  • ৩৪৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে গুরুত্ব দিচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুব সমাজের মতামত জানতে চেয়ে বলেছেন, সরকার তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে।
এখানে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ‘লেটস টক’ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ একদল তরুণের সঙ্গে এবং মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলো থেকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ রোহিঙ্গা নতুন অধিগ্রহণ করা ভাষান চরে নিয়ে যাবে, যাতে তারা প্রত্যাবাসনের আগে অপেক্ষাকৃত ভালো জীবনযাপন ও শিক্ষার সুযোগ পায়।
যুবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেয়া বাংলাদেশের ইউএনএইচসিআর’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি বলেন, ২২ আগস্ট দ্বিতীয় পদক্ষেপের পরে কিছু ইতিবাচক দিক দেখতে পেয়েছি। এই প্রথমবারের রোহিঙ্গা মিয়ানমার সরকারকে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বিন্দু।
স্টিভেন করলিস রোহিঙ্গাদের দাবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এসব দাবির মধ্যে রয়েছে তাদের ফেরার আগে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার দাবি।
দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ সরকার এই সময়ে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত না যাওয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়েছে একথা উল্লেখ করে করলিস বলেন, সেখানে মিয়ানমার ও চীনের দূতাবাস প্রতিনিধিরা ছিলেন তারা সেখানে প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি দেখতে পেয়েছেন।
করলিস বলেন, বর্ষা মৌসুমের পরে ভাষানচরের ব্যাপারে জাতিসংঘ সরকারের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করবে।
২০১৭ সালের আগস্টের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘জাতিগত নিধনের’ মুখে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়ার পরে কয়েক দশকের রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা লাভ করে।
মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে দুইবার তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে খুব সামান্যই সাড়া পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এই নীতি মেনে চলছে যে সকল রোহিঙ্গার মিয়ানমার ফেরার সিদ্ধান্ত তাদের স্বেচ্ছাকৃত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণরা নিরাপত্তা থেকে বনভূমিতে বিরূপ প্রভাব এবং তাদের দীর্ঘতার অবস্থানের কারণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। তারা স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেই। তবে আমরা আমাদের জনগণের স্বার্থ, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং আমাদের স্বাধীনতা সর্বাগ্রে দেখবো, এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যে সব দেশ রোহিঙ্গা শিশুদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বলেন তারা একথা মিয়ানমারকে বলতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি আশাকরি আমরা খুব শিগগির তাদের কিছু সংখ্যককে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে পারবো।
‘সেখানে পুকুর, পশু সম্পদ ও মৌলিক শিক্ষার নি¤œতম চাহিদা নিশ্চিত উল্লেখ করে শাহরিয়ার বলেন, কক্সবাজারের বর্তমান যেসব ক্যাম্পে তারা অবস্থান করছে তার চেয়ে সেটা উত্তম হবে।
তিনি বলেন সরকার স্থানান্তরের আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভাসান চরে নিয়ে যাবেন।
প্রতিমন্ত্রী তাদের প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছাকৃত হবে বলে উল্লেখ করেন।
শাহরিয়ার তরুণদের কাছ থেকে গভীর উপলদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকার সমস্যা সমাধানে বিচক্ষণ ও বিবেচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তোমাদের সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত।’
তাদের নিরাপদ ও টেকসই জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান আমাদের দায়িত্ব । সেখানে পানি সরবরাহসহ জীবনযাপনের মৌলিক প্রয়োজনীয় নিশ্চিত থাকায় তা অনেকটাই টেকসই।
তিনি বলেন , জীবনযাপনের কাজের সুবিধাদি নিয়েও তাদের মনে প্রশ্ন আছে।
কর্লিস বলেন, সরকার যদি ভাসানচরের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চায়, তাহলে আর্থিক প্রস্তাবণারও প্রয়োজন হবে। তাহলে তা কক্সবাজার অপারেশনের চেয়ে ব্যয়বহুল হবে। আমরা আশা করছি যে, খুব তাড়াতাড়িই আলোচনা শুরু করবো।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অসুবিধা থাকা সত্বেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি এখানে যতটুকু শান্তি ও নিরাপত্তা পাচ্ছে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে তারা তা পায়নি।
স্টিভেন করলিস বলেন, সুবিধাজনকভাবে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসনের উল্লেখ করে বলেন, রাখাইনে শান্তি নিরাপত্তা বিধান করে তাদের জনসাধারণকে ফেরত পাঠানোর পরিবেশ সৃষ্টি করায় ‘ সমান অথবা আরো বেশি প্রচেষ্টা’ চালাতে হবে।
তিনি সরকার ও ইউএনসিএইচআর-এর যৌথ প্রচেষ্টায় বায়োমেট্রিক রেজিস্টেশন পদ্ধতির প্রশংসা করেন।
ইউএনসিএইচসিআর প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, আমরা ইতোমধ্যেই ৬৭ শতাংশ কাজ শেষ করেছি আশা করা যাচ্ছে অক্টেবরের শেষ ভাগে বাকিটুকু শেষ করতে পারবো।
তিনি বলেন, এটি পরিস্কার তথ্য দেয় যে বাংলাদেশ যাদের আতিথেয়তা করছে তারা সেখানে অন্ততঃ একটি পরিচয় বহন করছে তাদের অনেকেরই কোনো পরিচয়পত্র নেই।
করেস্টভেন করলিস উল্লেখ করেন, এটি রোহিঙ্গাদের জন্য‘এক বিশাল প্রাপ্তি’ হয়ে দাঁড়াবে যে তারা তাদের নাগরিকত্ব দাবি করতে সক্ষম হবে। ১৯৮২ সালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সাংবিধানিকভাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিককত্ব বাতিল করে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat