ব্রেকিং নিউজ :
নির্বাচন–পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের বিশ্বব্যাপী তামা দৌড়ে জাম্বিয়ার নতুন সম্ভাবনা ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন জেলেনস্কি আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে চায় চীন : চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা এপস্টেইন নথি তদন্তে বিশেষ দল গঠন করল ফ্রান্স
  • প্রকাশিত : ২০২১-০৭-০৭
  • ৭১০ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেনকে টাই ব্রেকারে ৪-২ গোলে পরাজিত করে ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইতালি। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। পেনাল্টিতে শেষ শটটি সফল করে জর্জিনহো আজ্জুরিদের ফাইনালের টিকিট উপহার দেন। 
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইতালি অবশ্য কাল সেমিফাইনালের চাপটা সেভাবে নিতে পারেনি। হাই ভোল্টেজ ম্যাচটিতে প্রায় বেশীরভাগ সময়ই স্পেনের আধিপত্য ছিল। জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড ফেডেরিকো চিয়েসার গোলে ৬০ মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। ফর্মহীনতায় মূল একাদশ থেকে বাদ পড়া আলভারো মোরাতার হাত ধরেই শেষ পর্যন্ত স্পেন ম্যাচে ফিরে। ৫৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেন মোরাতা। নির্ধারিত সময় শেষ হবার ১০ মিনিট আগে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে আসা মোরাতা স্প্যানিশদের সমতায় ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে আর কোন গোল না হলে আবারো পেনাল্টি শ্যুট আউটে স্পেনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালেও সুইজারল্যান্ডকে টাই ব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল স্পেন। 
ইউরো ২০০৮’এর কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমির টিকিট পেয়েছিল স্পেন। কিন্তু এবার ডানি ওলমো ও মোরাতার পেনাল্টি মিসে কপাল পুড়েছে স্পেনের। অথচ ম্যানুয়েল লোকাত্তেলি প্রথম শটটি মিস করায় স্পেন সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই পেনাল্টি শ্যুট আউট শুরু করেছিল। কিন্তু ওলমো নিজের শটটি মিস করে ইতালিকে উল্টো সুযোগ করে দেয়। আন্দ্রে বেলোত্তি, লিওনার্দো বনুচ্চি ও ফেডেরিকো বার্নারডেশীর পরপর তিন গোলের সাথে জেরার্ড মোরেনো ও থিয়াগো আলচানতারা গোল করলেও মিস করে বসেন মোরাতা। এরপর শেষ শটে জর্জিনহো গোল করে ইতালিকে ফাইনালের পথ দেখান। 
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিশাল একটি সমর্থক গোষ্ঠীর সাথে ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছে ইতালি। ১৯৬৮ সালের পর এই প্রথমবারের মত ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে এখন বিভোর রবার্তো মানচিনির অধীনে বদলে যাওয়া ইতালি। এনিয়ে টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে আজ্জুরিদের। 
কিয়েভে ইউরো ২০১২ ফাইনালে স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হবার পর নয় বছর কেটে গেছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে বিশ্ব ফুটবলের এই দুই পাওয়ারহাউজ একে অপরের মোকাবেলা করলো। এবার তারা লন্ডনের মাঠে একে অপেরের মুখোমুখি হলেও ওয়েম্বলির পরিবেশ কিছুটা হলেও দলগুলোকে হতাশ করেছে। উভয় কোচই সেমিফাইনালে প্রাক্কালে বলেছিলেন দেশে থেকে কোয়ারান্টাইন বিধিনিষেধে কোন সমর্থক আসতে না পারাটা সত্যিই দু:খজনক। যদিও ব্রিটেনে একটি বিশাল স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান কমিউনিটি বাস করায় তারাই শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ দলকে সমর্থন যুগিয়ে গেছে। ওয়েম্বলিতে ৫৭,৮১১ জন সমর্থকের মধ্যে দুই দল মিলিয়ে ২০ হাজার সমর্থকের উপস্থিতির অনুমতি ছিল। করোনা মহামারী শুরু হবার পর থেকে সমর্থকদের এত বড় ম্যাচ দেখার সুযোগ আর হয়নি। 
স্পেনের সার্জিও বাসুকয়েটস, কোকে ও পেদ্রির বিপরীতে ইতালিয়ান ট্রায়োর জর্জিনহো, মার্কো ভেরাত্তি ও নিকোলো বারেলা মধ্যমাঠে সমান তালে লড়াই চালিয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সী পেদ্রি যেভাবে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই ম্যাচে প্রমান করেছে তাতে ধরে নেয়াই যায় ভবিষ্যতে বেশ কিছুদিন এই ফরোয়ার্ডকে দিয়ে সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে স্পেন। যদিও প্রথমার্ধেও প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই ছিল উভয় দলের গোলবারে এসে ব্যর্থতার পরিসংখ্যান। যদিও ২৫ মিনিটে ইতালিয়ান গোলরক্ষক গিয়ানলুইগি ডোনারুমা ওলমোর একটি শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেছেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লেফট-ব্যাক লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলার অনুপস্থিতি কাল অনুভব করেছে ইতালি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেশীর ইনজুরিতে পড়ায় দল থেকে ছিটকে গেছেন স্পিনাজ্জোলা। এদিকে স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে মোরাতাকে বাদ দিয়ে মূল একাদশে মিকেল ওয়ারজাবালের উপরই আস্থা রেখেছিলেন। শুরু থেকে স্পেন ম্যাচটি উপভোগ করলেও প্রথমে গোল দিয়ে এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা। ডোনারুমর থ্রো থেকে লোরেঞ্জো ইনসিগনে বল বাড়িয়ে দেন সিরো ইমোবিলের দিকে। অমারিক লাপোর্তের ট্যাকেল উপেক্ষা করে ইমোবিলে চিয়েসাকে বল দিলে ডান পায়ের জোড়ালো শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন এই জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড। ম্যাচে ফিরে আসার তাগিদে এনরিকে শেষ পর্যন্ত মোরাতা ও জেরার্ড মোরেনোকে মাঠে নামান। আর এই পরিবর্তনেই ভাগ্য ফিরে স্পেনের। প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে বল সংগ্রহ করে মোরাতার ওলমোর সাথে বল আদান প্রদান করে স্পেনকে সমতায় ফেরান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat