ব্রেকিং নিউজ :
রাজশাহী বিভাগের সব জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ৮ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে জরিমানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত নয় : শামা ওবায়েদ নাটোরে নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রবীন্দ্র-নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী পালিত এনজিও খাতের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান ড. তিতুমীরের নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পলক যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না: অভিযোগ আইনজীবীর প্রধানমন্ত্রী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করবেন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৮-১৩
  • ৫৬৫৪৪৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, আমেরিকার বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অত্যন্ত বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ৫০ জন উচ্চপদস্থ ব্যবসায়ী ও নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আলোচনায় বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সুদীর্ঘ বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও বিভিন্ন নীতিসমূহ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, বৈঠকে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবসায়ীদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমেরিকার শীর্ষ ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফল বৈঠকের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেদিকে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

মাহ্দী আমিন জানান, এই প্রতিনিধিদলে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো-ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা (ফেসবুক), ভিসা, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল, মেটলাইফ, বোয়িং, উবার, এশিয়া গ্রুপ, এপিআর এনার্জি, ভেনভা, ভিএফ কর্পোরেশন, কোর্তেভা এগ্রিসায়েন্স, সেলসফোর্স, উলকা সেমি, পাঠাও, সিসকো, অ্যাবট, মেট্রোট্যাক, এইচএসবিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, অ্যানকোরলেস এবং ড্রিঙ্কওয়েল।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকারের সদস্যদের কাছ থেকে এমন উষ্ণ ও সৌজন্যপূর্ণ আতিথেয়তা পাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্য ও আনন্দের। বাংলাদেশ সফরকালে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ কিছু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক বিনিয়োগকারী অংশীদার হতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত গর্বিত।

আমরা সর্বোচ্চ মানের প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যাবসায়িক নৈতিকতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করি। বাংলাদেশ সরকারের সাথে এই সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন, এই মহান দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী রূপকল্প আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি, যেখানে আপনাদের অসাধারণ মানবসম্পদ ও জনগণের অপার সম্ভাবনাকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে ভিশন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, আমরা তা অর্জনে সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও পর্যাপ্ত মূলধন নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি খাত একটি অন্যতম শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশ সত্যিই এক অপার সম্ভাবনাময় দেশ। বেশ কিছু আমেরিকান কোম্পানি বহু দশক ধরে এ দেশের মানুষের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নিরবচ্ছিন্ন অবদান রেখে চলেছে। এই সুদৃঢ় সম্পর্ক আমরা ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে অঙ্গিকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, ইউএস চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে পারি, সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এটি আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এই ইতিবাচক বার্তা আমরা আমাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলে পৌঁছে দেব, এবং আমাদের এই অসাধারণ সফরের কথা তাদের জানাব।

অতুল কেশপ আরও বলেন, আমাদের প্রতি চমৎকার আতিথেয়তা প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টাগণ, সরকারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, সচিবগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগামী দশকগুলোতেও বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের মানুষের সাথে আমাদের এই টেকসই অংশীদারিত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা রাখি।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ও ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি অপারেশন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা, মেটার দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক চা ইউয়েন টিং, মেটা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক পলিসি রুজান সারওয়ার, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমান, ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আনন্দ বিজয় ঝা এবং ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।

বৈঠকে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং বোয়িং গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং, মেটলাইফের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান পিয়া ব্রুনার এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।

এছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর প্যাট্রিক পিটস, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক উদয়া অরুণ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক দেবী চ্যাটার্জি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালটেন্ট শেমেই লেভি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম এবং উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat