যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আজ তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
অলিম্পিক পদক অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ‘শূন্য’ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
রোববার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি রাজস্বের কোনো টাকা খরচ না করে ও সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্পন্ন করায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদপত্র ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দু’দিন আগেই জানতে চেয়েছেন আমরা কবে অলিম্পিকে পদক পাব? আমরা অলিম্পিকের জন্য একেবারে ‘শূন্য’ থেকে কাজ শুরু করেছি। রাতারাতি হয়তো পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে আগামী ৫ বছর বা তার বেশি সময়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি, যাতে বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’
তিনি জানান, তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোর কিশোরীদের মধ্যে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের সরকারি খরচে বিকেএসপিতে রেখে পড়াশোনা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হবে। একটি টুর্নামেন্ট সামনে রেখে সাময়িক প্রস্তুতি না নিয়ে, নির্বাচিত ৮টি ইভেন্টে খেলোয়াড়দের জন্য বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হবে।
ক্রীড়াবিদদের জীবনমান ও পেশাদারিত্বের প্রসঙ্গে সাবেক এই জাতীয় তারকা বলেন, খেলোয়াড়দের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদ, কোচ, ট্রেনার ও রেফারিকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও তরুণদের কাছে খেলাধুলাকে একটি নিশ্চিত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ডিভাইস ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৮ বিঘা জমিতে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার ও সংস্কারের কাজ জোরদার করা হয়েছে।
আসন্ন সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশ নেবে। আগামী দিনে সঠিক পরিচর্যা পেলে বিশ্ব ফুটবলেও বাংলাদেশ এক দিন জায়গা করে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।