ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস রাজধানীর নিউ বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ভোটগ্রহণ শুরুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চলমান নির্বাচনে আজ দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ভোটগ্রহণের এই ইতিবাচক ধারা সারাদিন বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইজাবস এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সারাদেশে নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে ইইউ মিশন নিবিড়ভাবে ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রচুর উৎসাহ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করছি। আশা করি, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকবে।’
ইইউ ইওএম প্রধান জানান, তারা সারাদেশে অবস্থানরত তাদের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে অনলাইনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। কেন্দ্র খোলা, ভোটারদের উপস্থিতি এবং নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতির নিয়মিত আপডেট নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা আমাদের জানাচ্ছেন কেন্দ্রগুলো কীভাবে খোলা হয়েছে এবং কত মানুষ ভোট দিচ্ছেন। দেশের যেখানেই আমাদের পর্যবেক্ষকরা আছেন, সেখান থেকেই আমরা তথ্য পাচ্ছি।’
এর আগে সকালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইজাবস। ইইউ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিরপেক্ষ। আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছি না; আমরা কেবল পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
একটি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য ইইউ মিশন দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে ২০০-এর বেশি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে।
প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, এখন পর্যন্ত তারা যেসব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন, তার বেশিরভাগই সময়মতো খুলেছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে মিশন বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করলেও ভোট চলাকালীন কোনো মন্তব্য করবে না।
তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি নিয়ে আমরা পরে কথা বলব। কারণ এখন কোনো মন্তব্য করা মানেই রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়া।’
বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনকে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। এবার তারা একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।’
ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া মূল্যায়ন শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইইউ ইওএম।