ব্রেকিং নিউজ :
‘রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারির মামলা করা যায় না’ ২৭ জুলাই হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী বিশ্বকাপে মুনাফার লক্ষ্য সরকারের : তথ্যমন্ত্রী ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৩ আগস্ট আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে মেধা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা, সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা কাস্পিয়ান সাগরে জাহাজে প্রাণঘাতী হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১শ’ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট
  • প্রকাশিত : ২০২১-০১-০৪
  • ৯৯৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের চাষি সাইফুল ইসলাম সৌদি খেজুর ও ড্রাগন ফল আবাদ করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। তিনি প্রতিদিন ক্ষেতের পরিচর্যা করেন। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। খেতেও খুব সুস্বাদু। একবার লাগালে ৩০ থেকে ৩৫ বছর ফল খাওয়া ও বাজারজাত করা যায় । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা সরেজমিনে তার ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।
তিনি ২০২০ সালের মার্চ হতে বাণিজ্যিকভাবে ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন, ৫ বিঘা জমিতে সৌদি খেজুর, ৪ বিঘা জমিতে বেগুনসহ হরেক রকমের সবজি আবাদ করেন। এছাড়া তার ক্ষেতে ড্রাগনের সাথে মিশ্র ফসল হিসেবে বেগুন, ঝাল, ওল ও চাল কুমড়ার আবাদ রয়েছে। তার এ আধুনিক প্রযুক্তির আবাদ উপজেলাব্যাপী সম্প্রসারণেও তিনি ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাতবাড়িয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম পরিকল্পনা নেন ড্রাগন ফল ও সৌদি খেজুরের আবাদ করার। ৬ মাস আগে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন, ৫ বিঘা জমিতে সৌদি খেজুর, ৪ বিঘা জমিতে বেগুনসহ হরেক রকমের সবজি আবাদ করেন। এছাড়া মিশ্র ফসল হিসেবে তিনি ড্রাগন ও সৌদি খেজুর ক্ষেতে বেগুন, ঝাল, ওল ও কুমড়ার আবাদ করেন। ফসলের নিয়মিত পরিচর্যা করায় তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, যশোরের পলাশীর রুদ্রপুর পার্কের পাশে ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে এ গাছের কান্ড সংগ্রহ করে ক্ষেতে লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। তার ক্ষেতে ২,৫০০টি সিমেন্টের তৈরি পিলার পোতার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে ড্রাগন ক্ষেত। তার এ পর্যন্ত পিলার প্রতি এক হাজার টাকা করে খরচ হয়ে গেছে। বর্তমান ড্রাগন ক্ষেতে রিং ও টায়ার স্থাপণের কাজ চলছে। ইউটিউবে ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে তিনি সে মোতাবেক চাষাবাদ শুরু করেন। তার খেজুর ক্ষেতে বারী, খলিজি ও খালাদ জাতের খেজুর গাছ রয়েছে। যা কাঁচা খাওয়া যায়। ক্ষেতে সার হিসেবে কম্পোস্ট, ফসফেট, পটাশ, বোরন, জিংক ও ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে বেগুন গাছে ফল ওঠা শুরু হয়েছে। তার ক্ষেতের ফসলের পরিচর্যায় সার্বক্ষণিক ২০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এ পর্যন্ত যে ব্যয় হয়েছে তা শুধু বেগুন বিক্রি করেই উঠে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
সাইফুল ইসলাম শুধু একজন ড্রাগন ফলের চাষি হতে চান না। তিনি ড্রাগন ফলের আবাদ উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে দিতেও কাজ করছেন। তার ক্ষেতের উৎপাদিত ড্রাগন গাছের কান্ড উপজেলাব্যাপী কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আশা রয়েছে তার। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসছে তার ক্ষেতের ড্রাগন গাছ দেখতে।
প্রতিটি পিলারে ৪টি করে ড্রাগন গাছ লাগানো হয়েছে। ড্রাগন ক্ষেতের ভেতর সারিবদ্ধভাবে এক পাশে বেগুন, অন্যপাশে ঝাল, চারপাশ দিয়ে ওল ও মেটে আলুর আবাদ করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে মিষ্টি কুমড়া ও চাল কুমড়ার গাছ আছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষায় ক্ষেতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে সন্ধ্যার পর ক্ষেতে আলোর ফাঁদ পাতারও ব্যবস্থা আছে। তিনি ক্ষেতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন বলেই তার সবজির বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, তার ড্রাগন ক্ষেত ইতোপূর্বে কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। এ দেশের আবহাওয়ায় ড্রাগন ফল খুবই উপযোগী। সব সময় নতুন জাতের ফসল আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat