ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে যতটা প্রচার ও আলোচনা দেখা যায়, তার ছিটেফোঁটাও থাকে উভয়ের দ্বৈরথে। নারী-পুরুষ উভয় ক্রিকেটে এই চিত্রটা নিয়মিত হয়ে উঠেছে। নারী এশিয়া কাপে গতকাল নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন বিপর্যয় দেখল পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে তারা স্রেফ ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে।
দুইবাইয়ে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপের ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের জন্য মাইলফলক। কিন্তু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নিজেদের ২০০তম ম্যাচটি রাঙানোর বদলে উল্টো মুখ থুবড়ে পড়ে তারা। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.১ ওভারে গুটিয়ে যায় স্রেফ ৫৫ রানে। জবাব দিতে নামা ভারত জিতেছে ৭ উইকেটের ব্যবধানে। ৬৮ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা।
বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শ্রী চরণী আর প্রেমা রাওয়াত, দুজনেই নেন তিনটি করে উইকেট। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন চরণী, রাওয়াত নেন ৯ রানে ৩ উইকেট। দিপ্তি শর্মা মাত্র ৫ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।
শুরুতে পাকিস্তানের ইনিংস নিয়ন্ত্রণেই মনে হচ্ছিল। মুনিবা আলি করেন ১৩ রান, আর শাওয়াল জুলফিকার প্রথম উইকেটে করেন ১৪ রান। শুরুর উইকেটে তোলে ২৭ রান।
তবে মুনিবাকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শাফালি ভার্মা। এরপরই ধসের শুরু। আর ২৮ রান তুলতেই সবকটি উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। ষষ্ঠ ওভারে দুবার আঘাত হানেন চরণী। গুল ফেরোজাকে শূন্য রানে আউট করার পর তিনি ফেরান জুলফিকারকে, পাকিস্তানের রান তখন ৩ উইকেটে ২৯।
অষ্টম ওভারে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডের চেহারা দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩২-এ। এরপর রাওয়াত আর দিপ্তি শর্মা চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। ১৩তম ওভারের মধ্যে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৪৫। প্রতিযোগিতামূলক কোনো স্কোরে পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনাই তখন আর ছিল না।
শেষ তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ৫৫-তে, যা ভারতের সামনে রাখে অত্যন্ত সহজ এক লক্ষ্য। নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটাই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন সংগ্রহ, এর আগে ২০১২ সালের নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন ছিল ৬৩ রান।
মাত্র ৫৬ রানের লক্ষ্য হলেও, রান তাড়ার শুরুতে সবকিছু নিজেদের পক্ষে পায়নি ভারত। পাকিস্তানের বোলাররা তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ একটা সম্ভাবনা দেখান সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ফাতিমা সানা, তিনি নেন ১৭ রানে ৩ উইকেট।
তবে লক্ষ্যটা ছিল খুবই ছোট। ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৭ রান তুলে সাত উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ভারত। অপরাজিত ১৮ রানে ছিলেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। শেষদিকে কোনো নাটকীয়তার সুযোগ না দিয়ে বেশ কিছু বল হাতে রেখেই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ভারতীয় অধিনায়ক।
এই জয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের নিখুঁত যাত্রা অব্যাহত রাখল ভারত। তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন ছয়, আর সেমিফাইনালেও জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের নকআউটের আশা অবশ্য একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে হংকংয়ের বিপক্ষে। সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ ম্যাচে জয় পেলেই চলবে তাদের।
টি-টোয়েন্টিতে এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বিপর্যয়টাও বেশি দূরে নয়। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তারা অলআউট হয়েছিল মাত্র ৫৬ রানে। ফাতিমা সানার দল দুই বছর পর নিজেদের সেই সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহকেও ছাড়িয়ে গেল। এছাড়া ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০, ভারতের বিপক্ষে ২০১২ এশিয়া কাপে ৬৩, এর আগের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৫ এবং ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭২ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তানের মেয়েরা।
এদিকে, ভারত অবশ্য টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলকে আরও সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার সাক্ষী হয়েছে। তাদের বিপক্ষে ২০১৮ সালে স্রেফ ২৭ রানে অলআউট হয়েছিল মালয়েশিয়ার মেয়েরা। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ৩৭, বাংলাদেশ ৫১ ও ৫৪ রানে (পৃথক ম্যাচে) অলআউট হয়েছিল হরমনপ্রীত-স্মৃতি মান্ধানাদের বিপক্ষে। ৫৫ রান নিয়ে এরপরই অবস্থান পাকিস্তানের।
মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য আরও মহাবিপর্যয়ের নজির আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদীপের মেয়েরা ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর হেরেছিল ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। এ ছাড়া রুয়ান্ডার বিপক্ষে মালির মেয়েরাও সমান ৬ রানে অলআউট হয়েছিল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার বিব্রতকর ইনিংস আছে ২৫টি।