ব্রেকিং নিউজ :
ভোলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে যমুনা থেকে ভোটদান চিত্র পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার এবারের ঐতিহাসিক নির্বাচন জাতির কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুই ক্র্যাচে ভর দিয়ে ভোট কেন্দ্রে রাজশাহীর বৃদ্ধা দুলোন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে : ফারুক-ই-আজম ভোটারদের ইতিবাচক উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছে ইইউ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করছে : তথ্য উপদেষ্টা দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ : ইসি সচিব
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৩-০২
  • ৪৬৪ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বিকেলে বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পর পর দুটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়া ও কাতারের রাষ্ট্রদূতদ্বয়ের কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন।
আবাসিক রাষ্ট্রদূতদ্বয় হলেন ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের হেরু হারতান্তো সুবোলো এবং কাতারের সেরায়া আলী এমএস আল-কাহতানি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, পরিচয়পত্র গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি দেশ দুটোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বিশেষ করে পারস্পরিক সুবিধার জন্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে দূত হিসেবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এখানে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনকালে দেশদুটোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
পরিচয়পত্র পেশ করার পরপর ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠককালে হামিদ ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে ইন্দোনেশিয়ার স্বীকৃতিদান এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দোনেশিয়ার নেতা ড. সুকর্নোর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে।
দুই দেশ যৌথভাবে এ বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে বলে তিনি আশা করেন।
২০১৭ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্দোনেশিয়া সফর এবং পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর বাংলাদেশে সফরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপ্রধান উভয় দেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
প্রেসসচিব রাষ্ট্রপতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার জন্য বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, হালকা-প্রকৌশল, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে তাদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।
পরে কাতারের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠককালে আবদুল হামিদ দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্ভাবনাসমূহ অন্বেষণ করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ঘন ঘন উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন।
রাষ্ট্রপতি ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কাতারে জনশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক সেখানে কাজ করছে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)-এর উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, প্রায় ১০,০০০ বাংলাদেশী জনশক্তি সেখানে নির্মাণ প্রকল্পে অংশ নিয়েছে।
তিনি পারস্পরিক সুবিধার জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হামিদ বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ, ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণ, ইলেক্ট্রনিক, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাটের তৈরি পণ্য, ওষুধ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য এখানে বিনিয়োগের জন্য কাতারের বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়েও তথ্য বিনিময় হয়।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূতদ্বয় রাষ্ট্রপতিকে বলেন যে, তারা তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের সম্ভাব্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
বঙ্গভবনের মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশ দুটোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশে তাদের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রদূতদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাষ্ট্রদূতদ্বয় বঙ্গভবনে পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি দল অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূতদের গার্ড অব অনার প্রদান করে।
সেনাবাহিনীর ব্যান্ডের দ্বারা সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় সঙ্গীতও বাজানো হয় এবং রাষ্ট্রদূতদ্বয় গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat